সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :
সময়ের প্রয়োজনে সাংবাদিকদের মাল্টিমিডিয়া দক্ষতা অর্জন করতে হবে। প্রযুক্তির উৎকর্ষতার এই সময়ে সাংবাদিকতার প্রথাগত সংজ্ঞা বদলে গেছে। এখন প্রযুক্তিই সাংবাদিকতার বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছে। তবে প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি নীতি-নৈতিকতা বজায় রাখা এবং তথ্যের উৎসের (সোর্স) সুরক্ষা নিশ্চিত করা একজন প্রকৃত সাংবাদিকের প্রধান দায়িত্ব।
সোমবার (১৮ মে) রাতে সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে আয়োজিত ‘মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টিং’ বিষয়ক এক বিশেষ শিখন আড্ডায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি শামস শামীমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিলেতের বিশিষ্ট সাংবাদিক ও রানার টিভির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আ স ম মাসুম।
সভায় প্রধান আলোচক আ স ম মাসুম তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে গিয়ে বলেন, "বর্তমান সময়ে সাংবাদিকতায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের গুরুত্ব অপরিসীম। এখন কেবল স্ক্রল কিংবা কোনো খবর ভাইরালের পেছনে না ছুটে, বস্তুনিষ্ঠ ও মাঠপর্যায়ের 'কমিউনিটি নিউজ' বা স্থানীয় জনগুরুত্বপূর্ণ সংবাদের দিকে বেশি নজর দিতে হবে।" তিনি মোবাইল সাংবাদিকতা (মোজো), ভিডিও স্টোরিটেলিং, দ্রুত তথ্য যাচাই (ফ্যাক্ট-চেক) এবং মাঠপর্যায়ের রিপোর্টিংয়ের বিভিন্ন আধুনিক ও কারিগরি দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে জেলার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা বলেন, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে বর্তমান যুগের সাংবাদিকদের অবশ্যই মাল্টিমিডিয়া দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিক আ স ম মাসুমের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা স্থানীয় সাংবাদিকদের জন্য একটি বড় প্রেরণা হিসেবে কাজ করতে পারে। তরুণ ও নবীন সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা ও গুণগত মান বাড়াতে এই ধরনের আয়োজন নিয়মিত করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তারা।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য ও নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন— সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি লতিফুর রহমান রাজু, সিনিয়র সাংবাদিক শাহজাহান চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমরানুল হক চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সময় টিভির স্টাফ রিপোর্টার হিমাদ্রী শেখর ভদ্র।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কালবেলার জেলা প্রতিনিধি এ কে কুদরত পাশা, বাসসের জেলা প্রতিনিধি আমিনুল হক, রিপোর্টার্স ইউনিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও এসএ টিভির প্রতিনিধি শাহরিয়ার সুমন, বৈশাখি টিভির প্রতিনিধি কর্ণবাবু দাস, দৈনিক বণিক বার্তার প্রতিনিধি আল আমিন এবং বাংলা টিভির প্রতিনিধি ফোয়াদ মনিসহ জেলায় কর্মরত বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক মাল্টিমিডিয়া মাধ্যমের প্রতিনিধিরা।