গ্রিনিচে বিডিএসইউএল বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষামূলক ভ্রমণ সম্পন্ন

| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
পোস্টটি পড়া হয়েছে : ০ বার
 ছবি:
ছবি:


বাংলা ভিউ ডেস্ক ::

চব্বিশ আগস্ট সোমবার লন্ডনে, যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ দ্যা ওয়েস্ট অফ স্কটল্যান্ড, লন্ডন ক্যাম্পাসে স্টুডেন্ট ইউনিয়নের অধীন বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের সংগঠন বিডিএসইউএল-র উদ্যোগে লন্ডনের ঐতিহাসিক গ্রিনিচ এলাকায় একটি শিক্ষামূলক ও আনন্দঘন ভ্রমণের আয়োজন করা হয়।

সংগঠনের সভাপতি আব্দুর রহিম ও কয়েকজন দায়িত্বশীল সদস্যের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই ভ্রমণে গ্রিনিচের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন পরিদর্শনের পাশাপাশি সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

টেমস নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মিত এই ঐতিহাসিক সুড়ঙ্গ গ্রিনিচ ও আইল অব ডগস এলাকার মধ্যে পথচারীদের যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
উনিশ শতকের শেষভাগে নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ১৯০২ সালে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হওয়া এই সুড়ঙ্গ তৎকালীন প্রকৌশল দক্ষতা ও নগর যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এটি আজও মানুষের চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রতিদিন প্রায় হাজার মানুষ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন।

এরপর শিক্ষার্থীরা পরিদর্শন করেন বিখ্যাত পালতোলা জাহাজ কাট্টি সার্ক। উনিশ শতকে চা ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত এই জাহাজ ব্রিটেনের সমুদ্রবাণিজ্য ও নৌ-ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। কাট্টি সার্কের ইতিহাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সে সময়ের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, সমুদ্রযাত্রা এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগের ইতিহাস সম্পর্কে জানার সুযোগ পান।

ভ্রমণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল গ্রিনিচ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পরিদর্শন। শিক্ষা, ইতিহাস ও স্থাপত্যের অনন্য সমন্বয়ের কারণে গ্রিনিচ বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশপাশের এলাকা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ সৃষ্টি করে। পাশাপাশি তারা গ্রিনিচ মানমন্দিরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কেও জানতে পারেন।

বিশ্বের সময় গণনার ইতিহাসে গ্রিনিচের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রিনিচ মানমন্দিরের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করা প্রধান মধ্যরেখাকে পৃথিবীর দ্রাঘিমা নির্ধারণের আন্তর্জাতিক ভিত্তি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করা হয়েছে। গ্রিনিচ মধ্যবর্তী সময় বা জিএমটি একসময় আন্তর্জাতিক সময় গণনার অন্যতম প্রধান মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। নৌযান পরিচালনা, মানচিত্র প্রণয়ন, পৃথিবীর অবস্থান নির্ধারণ এবং আধুনিক সময় ব্যবস্থার বিকাশে গ্রিনিচের এই ঐতিহাসিক অবদান আজও বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এই ভ্রমণের উদ্দেশ্য শুধু ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন বা বিনোদন ছিল না। বরং শ্রেণিকক্ষের বাইরেও বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন, নিজেদের মধ্যে বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং একটি শক্তিশালী শিক্ষার্থী সমাজ গড়ে তোলাই ছিল এই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।

ভ্রমণের পাশাপাশি সংগঠনের সদস্যরা পরবর্তী কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে একটি অভ্যন্তরীণ আলোচনা করেন। নতুন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানো, তাদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং সংগঠনের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। আগামী সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য নবাগত শিক্ষার্থী পরিচিতি সপ্তাহকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণের পরিকল্পনাও নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত