লন্ডনে গর্বের এক নতুন অধ্যায় : মেয়র ফরহাদ ও মেয়র লুৎফুর

| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
পোস্টটি পড়া হয়েছে :  বার
বামে ছবিতে নবনির্বাচিত মেয়র ফরহাদ হোসেন ও ডানে মেয়র লুৎফুর রহমান। ছবি:
বামে ছবিতে নবনির্বাচিত মেয়র ফরহাদ হোসেন ও ডানে মেয়র লুৎফুর রহমান। ছবি:

মুহাম্মদ শাহেদ রাহমান, লন্ডন  : 

যুক্তরাজ‍্যের লন্ডনে গর্বের এক নতুন অধ্যায়, ব্রিটিশ রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ দুই কাউন্সিলের নেতৃত্বে এখন দুইজন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি মুখ ।

লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস ও নিউহ্যাম কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র তথা নেতৃত্বের আসনে বসে আবারও প্রমাণ হলো—পরিশ্রম, সততা আর যোগ্যতা থাকলে প্রবাসের মাটিতেও বাংলাদেশিরা সম্মানের সাথে নিজেদের জায়গা তৈরি করতে পারে।

এ অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয়, পুরো বাঙালি বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য অনুপ্রেরণা ও গর্বের। শুধু তাই নয় লন্ডনের ৫ জন নির্বাহী মেয়রের ২জনই  বাঙালি, ব্রিটিশ-বাংলাদেশী এবং সিলেটের কৃতি সন্তান। 

 

পূর্বলন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস ও নিউহ্যাম বারা কাউন্সিল—পাশাপাশি অবস্থানে থাকা বাংলাদেশী অধ্যুষিত দুটি বারা কাউন্সিল। দুটোর নেতৃত্বেই এখন দুই বৃটিশ বাংলাদেশী। 

লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে চতুর্থবারের মতো নির্বাহী মেয়র নির্বাচিত হলেন লুৎফুর রহমান। আর নিউহ্যামে প্রথমবারের মতো নির্বাহী মেয়র নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়লেন ফরহাদ হোসেন। 

ফরহাদ হোসেন ব্রিটেনে প্রথম কোন ব্রিটিশ বাংলাদেশি যিনি মূলধারার রাজনৈতিক দল থেকে মেয়র নির্বাচিত হলেন।  তার দল ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি।  আর লুৎফুর রহমানের দলের নাম এসপায়ার পার্টি। 

লন্ডনে মোট বারা কাউন্সিল ৩২টি এর মধ্যে ৫টিতে জনগনের সরাসরি ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন। এসব মেয়রদের নির্বাহি ক্ষমতা রয়েছে। 

বাকী বারা কাউন্সিলগুলো শিরোমণিয়াল। এই ৫ বারার ২টিতেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশী অরিজিন মেয়র।

লন্ডনের টাওয়ার হ‍্যামলেটস কাউন্সিল থেকে চতুর্থ বারের মতো জয় পেলেন ব্রিটিশ বাংলাদেশি লুৎফুর রহমান। 

নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে ১৬২২৫ ভোট বেশি পেয়েছেন। আসপায়ার পার্টি থেকে লুৎফর রহমান নির্বাচিত হন। 

দ্বিতীয় হয়েছেন লেবার পার্টির প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম  - ভোট ১৯৪৫৪। তৃতীয় গ্রীন পার্টির হিরা খান - ভোট পেয়েছেন  ১৯২২৩।

 

অন‍্যদিকে যুক্তরাজ্যের নিউহাম কাউন্সিলের নির্বাচনে লেবার পার্টির মেয়র প্রার্থী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফরহাদ হোসেন জয়ী।

ফরহাদ হোসেন পেয়েছেন ২৫ হাজার ৫৩৮ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ মির্জা পেয়েছেন ২০ হাজার ২৩৪ ভোট।

 

রাজনীতির পাশাপাশি কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন ফরহাদ হোসেন। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্ন সামাজিক ও জনসেবামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি পরিচিতি অর্জন করেন।

নির্বাচনী প্রচারণায় স্থানীয় সেবা উন্নয়ন, কমিউনিটি সম্প্রীতি এবং তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

জয়লাভের পর ফরহাদ হোসেন সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই বিজয় পুরো কমিউনিটির জন্য গর্বের বিষয়। তিনি সব সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার করেন।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকে মনে করছেন, ফরহাদ হোসেনের এই অর্জন যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অংশগ্রহণকে আরও উৎসাহিত করবে।

 

উল্লেখ‍্য গত ৭ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে যুক্তরাজ‍্যের স্থানীয় কাউন্সিল নির্বাচন।  ৮ মে শুক্রবার বিকেলে অন‍্যান‍্য কাউন্সিলের মতো এদুটি কাউন্সিলের ফলাফল ঘোষণা করেন দায়িত্বরত নির্বাচন কমিশনার।

এ পর্যন্ত আমাদের কাছে প্রাপ্ত তথ‍্য অনুযায়ী ব্রিটিশ বাংলাদেশী  নির্বাহী মেয়র জয়ী হয়েছেন এ দুজনই। অভিনন্দন তাদের দুজনকেই। 

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত